ঢাকা , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘লাল ফিতায়’ বন্দি মেসার্স সওদাগর অটো রাইস মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-১৯ ২২:১০:৫৩
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘লাল ফিতায়’ বন্দি মেসার্স সওদাগর অটো রাইস মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘লাল ফিতায়’ বন্দি মেসার্স সওদাগর অটো রাইস মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ
মাসুদুর রহমান, জামালপুর প্রতিনিধি:


Hide quoted text সরকারের কোষাগারে প্রায় ২৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়েও মাসের পর মাস বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে। সব ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ফাইল অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ইসলামপুর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের মেসার্স সওদাগর অটো রাইস মিল-এর ৮০০ কিলোওয়াট শিল্প সংযোগের কাজ থমকে রয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক। ভুক্তভোগী শিল্প উদ্যোক্তার দাবি, ডিপোজিট ওয়ার্কের আওতায় লাইন নির্মাণের জন্য সমিতির চাহিদা অনুযায়ী দুই ধাপে ৮ লাখ ৫০ হাজার ৮১৬ টাকা এবং ১০ লাখ ১৯ হাজার ৭৭৪ টাকা, অর্থাৎ মোট ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৫৯০ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জামানত হিসেবে আরও ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য তিনি মোট ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৯০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে ইসলামপুর জোনাল অফিস প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রাক্কলন সম্পন্ন করে প্রকল্পের স্টেকিং শিট জামালপুর সদর দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএনসি) শাখায় পাঠায়। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সরকারি টেন্ডারে কাজটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ২১ জুন অনুষ্ঠিত টেন্ডারে রহস্যজনকভাবে এ প্রকল্পটি রাখা হয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত কোনো ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি এবং মাঠপর্যায়ে লাইন নির্মাণের কাজও শুরু হয়নি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ইএনসি) শেখ ফরিদ এবং মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, "ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজটি বিলম্বিত হচ্ছে।" অন্যদিকে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ইএনসি) শেখ ফরিদ বলেন, "কাজটির অনুমোদন এখনও সম্পন্ন হয়নি। অনুমোদন হওয়ার পর ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।" দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে জিএম ঠিকাদারের গাফিলতির কথা বলছেন, অন্যদিকে ইএনসি কর্মকর্তা বলছেন, এখনো ঠিকাদারই নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগী শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, "বিদ্যুৎ সংযোগের আশায় সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। ব্যাংক ঋণ নিয়ে কারখানা নির্মাণ করেছি। কিন্তু সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদন শুরু করতে পারছি না। ঋণের সুদ বাড়ছে, লোকসানের পরিমাণও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাচ্ছি না।"

স্থানীয় ব্যবসায়ীএলাকাবাসীর দাবি, শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগে অযৌক্তিক বিলম্ব স্থানীয় শিল্পায়নের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত টেন্ডার সম্পন্ন করে লাইন নির্মাণের কাজ শুরু এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ